সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Gyanesh Kumar Public Impeachment: দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি আন্দোলনের পথে নেমেছে বিরোধী INDIA জোট। শনিবার, ৩১ অক্টোবর দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে আয়োজন করা হয় এক অভিনব রাজনৈতিক কর্মসূচি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Public Impeachment’। সংসদের আদলে তৈরি মঞ্চে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা, অভিযোগ উত্থাপন এবং প্রতীকী অপসারণ প্রস্তাব। আর সেই কর্মসূচির পর আজ, রবিবার ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা।
এই দুই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সামনে আনা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার দাবি জানানো। তবে বিরোধীদের এই ‘Public Impeachment’ কোনও সাংবিধানিক অভিশংসন নয়। এটি একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কী এই মক পার্লামেন্ট বা Public Impeachment?
মক পার্লামেন্ট (Mock Parliament) বলতে বোঝায় সংসদের আদলে তৈরি একটি প্রতীকী অধিবেশন। এখানে আসল সংসদের মতো স্পিকার, প্রস্তাব উত্থাপন, বক্তব্য, বিতর্ক এবং ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। তবে এটি ভারতের প্রকৃত সংসদীয় অধিবেশন নয়। এর মাধ্যমে কোনও সাংবিধানিক পদাধিকারীকে সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করা যায় না।
৩১ অক্টোবর দিল্লিতে বিরোধীদের আয়োজিত কর্মসূচিটি সংবাদমাধ্যমে ‘মক পার্লামেন্ট’ এবং ‘Public Impeachment’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার এই প্রতীকী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এরপর বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা, সাংসদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শেষ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ২৫০-র বেশি বিরোধী সাংসদ অংশ নেন এবং শেষে হাত তুলে প্রতীকী প্রস্তাবটি পাস করা হয়।
কেন হঠাৎ এমন কর্মসূচির আয়োজন করল বিরোধীরা?
এই কর্মসূচির পিছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক বিরোধ।
SIR-এর সম্পূর্ণ নাম Special Intensive Revision। এটি নির্বাচন কমিশনের পরিচালিত ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাই, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং যোগ্য নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করা হয়।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিরোধীদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রশ্ন ও আপত্তির যথাযথ জবাব দিচ্ছে না। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।
এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য বিবেচনা না করে বিরোধীদের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ তুলেছেন খাড়্গে?
শনিবারের প্রতীকী অধিবেশনে মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা পরিচালনায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে।
বিরোধীদের উত্থাপিত ছয়টি অভিযোগ হলো:
১. নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ: বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র হয়েছে।
২. বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ: SIR-এর মাধ্যমে প্রায় ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন খাড়্গে। রাহুল গান্ধীও ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার দাবি করেছেন।
৩. Form 6 পরিবর্তনের অভিযোগ: নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত Form 6-এর নিয়ম বা ব্যবস্থায় সংসদের অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন আনার অভিযোগ করা হয়েছে।
৪. ECINET ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচন সংক্রান্ত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকার ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।
৫. অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করার অভিযোগ: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
৬. কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবের অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ বা প্রভাব অনুযায়ী কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
উল্লেখ্য, এগুলি বিরোধী জোটের উত্থাপিত অভিযোগ। এগুলির প্রতিটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও সরকারি নথির সঙ্গে অভিযোগগুলি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কেন আসল সংসদে নয়, খাড়্গের বাসভবনে মক পার্লামেন্ট?
এখানেই রয়েছে এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিক।
বিরোধীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের বিষয়ে তারা সংসদের উভয় কক্ষে প্রস্তাব জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লোকসভা ও রাজ্যসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নোটিস গ্রহণ করেনি বলে বিরোধীরা জানিয়েছে।
এরপরই সংসদের বাইরে জনসমক্ষে প্রতীকী অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে অন্য জায়গায় কর্মসূচি করার কথা থাকলেও অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার পর শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবন ১০, রাজাজি মার্গে আয়োজন করা হয়।
৩১ অক্টোবরের আগে বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে শুরু হয় এই প্রতীকী অধিবেশন।
বিরোধীদের বক্তব্য, সংসদে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা সাধারণ মানুষের সামনে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরতে এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন।
মক পার্লামেন্টে কী হলো শেষ পর্যন্ত?
শনিবারের কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার সভাপতিত্ব করেন। খাড়্গে প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিরোধী দলের নেতারা একে একে বক্তব্য রাখেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিরোধী সাংসদদের সংসদ, বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীরা আর চুপ করে থাকতে পারে না।
প্রস্তাবের শেষে উপস্থিত বিরোধী নেতারা হাত তুলে সমর্থন জানান। এভাবেই প্রতীকীভাবে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাস করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এটি কোনও আদালতের রায় বা সংসদের সিদ্ধান্ত নয়।
আজ ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কী কর্মসূচি?
শনিবারের Public Impeachment-এর পর আজ রবিবার দিল্লিতে দ্বিতীয় বড় কর্মসূচির আয়োজন করেছে INDIA জোট।
‘Vote Bachao, Desh Bachao’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘চলো দিল্লি’ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুপুর ১২টা নাগাদ মিন্টো রোড-Connaught Place সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে পৌঁছবে। সেখানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।
এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে-সহ INDIA জোটের বিভিন্ন দলের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। কংগ্রেসের পাশাপাশি বিরোধী জোটের অন্যান্য দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দিল্লিতে আসছেন। INDIA জোটের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের প্রত্যাশা করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অনুমান, রামলীলা ময়দানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লিতে আসা মানুষকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎসবের কেনাকাটা করার অনুরোধও করেছেন তিনি।
BJP কী বলছে? অমিত শাহের পাল্টা প্রস্তাব
বিরোধীদের এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছে BJP। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগে বিরোধীদের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ সংসদে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, BJP সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরা সংসদের বাইরে আন্দোলন করছে।
BJP-র অন্য নেতারাও বিরোধীদের ‘Public Impeachment’ কর্মসূচিকে রাজনৈতিক নাটক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদের বাইরে প্রতীকী অধিবেশন করে কোনও সাংবিধানিক পদাধিকারীকে অপসারণ করা যায় না।
অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, সংসদে তাঁদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলেই তাঁরা জনসমক্ষে এই কর্মসূচি করতে বাধ্য হয়েছেন।
অর্থাৎ, এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তাহলে কি জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে ভারতের সংবিধানের নিয়ম জানা প্রয়োজন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য সংবিধানে বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতো একই পদ্ধতি এবং একই ভিত্তিতে অপসারণ করা যায়। অর্থাৎ সংসদের উভয় কক্ষে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়।
কোনও রাজনৈতিক দলের সভা, মিছিল বা প্রতীকী ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁকে সরানো সম্ভব নয়। তাই ৩১ অক্টোবরের Public Impeachment-কে সাংবিধানিক অপসারণ হিসেবে দেখা যাবে না।
এই আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী?
বিরোধীদের এই দুই দিনের কর্মসূচির কয়েকটি উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনসমক্ষে বিতর্ক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তৃতীয়ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি আরও জোরালো করা। চতুর্থত, INDIA জোটের বিভিন্ন দলকে একটি সাধারণ রাজনৈতিক ইস্যুতে এক মঞ্চে আনা।
অন্যদিকে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনসমর্থন প্রদর্শন করতে চাইছে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
তবে আন্দোলনের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু মিছিল বা জমায়েতের সংখ্যা নয়, ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে কোনও প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
শেষ কথা
জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের এই আন্দোলন শুধু একজন নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন।
৩১ অক্টোবরের মক পার্লামেন্ট বা Public Impeachment ছিল বিরোধীদের প্রতীকী প্রতিবাদের একটি অভিনব পদ্ধতি। আর ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের সমাবেশ সেই আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর জনপরিসরে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক চাপের ফলে নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।

