সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Ayushman Bharat and Swasthya Sathi New Rules: পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার নতুন নিয়ম মানতে হবে হাসপাতালগুলিকে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে শুরুতেই যাচাই করতে হবে তিনি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না। অর্থাৎ, সরাসরি স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা শুরু করার পরিবর্তে আগে আয়ুষ্মান ভারতের বিষয়টি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই রোগী ও হাসপাতাল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত, দুই ধরনের সুবিধা থাকার সম্ভাবনা থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় কোন প্রকল্পে চিকিৎসা হবে, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকে। নতুন ব্যবস্থায় সেই বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
Ayushman Bharat and Swasthya Sathi New Rules: হাসপাতালে ভর্তি হলেই প্রথমে কী পরীক্ষা হবে?
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমে দেখতে হবে তাঁর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে কি না। যদি রোগীর বৈধ আয়ুষ্মান কার্ড থাকে এবং প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের অধীনেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে বলেই সরাসরি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা শুরু করা যাবে না। আগে আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।
আয়ুষ্মান পোর্টালে সমস্যা হলে কী হবে?
অনেক সময় অনলাইন পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যা, তথ্য যাচাই সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্য কোনও কারণে আয়ুষ্মান প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে সেক্ষেত্রে হাসপাতালকে সমস্যাটির যথাযথ নথি রাখতে হবে। কী সমস্যা হয়েছে, তার লিখিত বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা করা যাবে।
অর্থাৎ, শুধু পোর্টালে সমস্যা হয়েছে বললেই হবে না। সমস্যার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
আয়ুষ্মানের যোগ্য না হলে স্বাস্থ্যসাথীতে চিকিৎসা
যদি যাচাই করে দেখা যায় যে কোনও রোগী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন, তাহলে তাঁর চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় করা যাবে।
ফলে নতুন নিয়মের মূল বিষয় হল, আগে আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতা যাচাই এবং তার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসাথী ব্যবহার।
Ayushman Bharat and Swasthya Sathi New Rules: আয়ুষ্মানের তালিকায় নাম রয়েছে, কিন্তু কার্ড অনুমোদিত হয়নি?
এই পরিস্থিতিতেও নির্দেশিকায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। কোনও রোগীর নাম আয়ুষ্মান ভারতের তালিকায় থাকলেও যদি তাঁর কার্ড এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
অর্থাৎ, কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় রোগীর চিকিৎসা আটকে থাকবে না।
ই-কেওয়াইসি অসম্পূর্ণ থাকলে কী করতে হবে?
আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও রোগীর ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকলে, আগে সেটি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করতে হবে।
এর মাধ্যমে রোগীর পরিচয় ও প্রকল্পের যোগ্যতা যাচাই করে চিকিৎসার সঠিক মাধ্যম নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বড় উদ্যোগ, সরকারি ফোনের পর এবার আলাদা সিম কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত
৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যও রয়েছে নির্দেশ
৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় তাঁদের প্রকল্পভুক্তির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হওয়ায় এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হাসপাতালগুলির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কোনও প্রকল্পের তালিকাতেই নাম না থাকলে কী হবে?
কোনও রোগীর নাম যদি আয়ুষ্মান ভারত বা স্বাস্থ্যসাথীর তালিকায় না থাকে, তাহলেও চিকিৎসার পথ বন্ধ হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করিয়ে স্বাস্থ্যসাথী ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Ayushman Bharat and Swasthya Sathi New Rules: নতুন নিয়মের সহজ অর্থ কী?
পুরো বিষয়টি সহজ করে বললে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর ক্ষেত্রে মূলত এই ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে:
প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতা যাচাই → আয়ুষ্মান কার্ড থাকলে আয়ুষ্মানের আওতায় চিকিৎসা → আয়ুষ্মানে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে প্রমাণসহ স্বাস্থ্যসাথী → আয়ুষ্মানের যোগ্য না হলে স্বাস্থ্যসাথী।
আবার আয়ুষ্মানের তালিকায় নাম থাকলেও কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যাবে। আর কোনও প্রকল্পের তালিকাতেই নাম না থাকলে প্রয়োজনীয় ফর্মের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোগীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন নিয়মের ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত, দুই প্রকল্পের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আয়ুষ্মান কার্ড, পরিচয়পত্র এবং ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত তথ্য ঠিকঠাক থাকলে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
তবে কোনও রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে প্রকল্প সংক্রান্ত যাচাইয়ের কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চিকিৎসা পরিষেবা চালিয়ে যেতে হবে।
সারকথা, নতুন ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে আগে আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। আয়ুষ্মানের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যসাথী ব্যবহার করা যাবে। ফলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্য প্রকল্পের কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথি ঠিকঠাক আছে কি না, তা একবার যাচাই করে রাখা উপকারী।
