সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Flipkart Minutes VIP Pass Scam?: কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসাহ এবং বিখ্যাত প্যান্ডেলগুলি ঘুরে দেখার পরিকল্পনা। কিন্তু জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে ভিড়ের কারণে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এই সমস্যা এড়িয়ে অল্প সময়ে একাধিক পুজো দেখার আশায় অনেকেই VIP পাসের দিকে ঝোঁকেন।
আমিও সেই আশাতেই Flipkart Minutes থেকে দুটি VIP পাস কিনেছিলাম। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪৯। পাসের প্যাকেজিংয়ে লেখা ছিল,
“THIS PUJO, GO VIP. SKIP QUEUES IN MINUTES.”
অর্থাৎ, VIP সুবিধা নিয়ে অল্প সময়ে লাইনের ঝামেলা এড়িয়ে পুজো দেখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
Releted Artical : Top 10 Durga Puja Pandals in Kolkata 2026 | Google Map Location, Themes, Estimated Budgets and Must-Visit Attractions
কিন্তু ১৬ অক্টোবর, মহাষষ্ঠীর দিন আমাদের অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। প্রথমে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতিতেও VIP পাসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির মুখে পড়ি।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্ন উঠছে, VIP পাস কেনার আগে ক্রেতারা কি যথেষ্ট পরিষ্কার তথ্য পাচ্ছেন? যে সুবিধার আশায় টাকা খরচ করা হচ্ছে, বাস্তবে সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে কি?

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে গিয়ে শুরু হল ভোগান্তি
মহাষষ্ঠীর দিন আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল কলকাতার বিখ্যাত সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার দুর্গাপুজো। ২০২৬ সালে এই পুজোর ৯১তম বর্ষ। এ বছরের থিম হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’-এর উল্লেখ করা হয়েছে।
শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে আমরা মণ্ডপের দিকে হাঁটতে শুরু করি। কিন্তু কিছুটা এগোতেই দীর্ঘ লাইনের মুখে পড়তে হয়। আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ঘুরিয়ে দর্শনার্থীদের এগোতে হচ্ছিল।
এতটা পথ হাঁটার পরেও মনে ছিল, VIP পাস তো কেনা হয়েছে। নিশ্চয়ই আলাদা প্রবেশপথ দিয়ে দ্রুত মণ্ডপে ঢোকা যাবে। কিন্তু মণ্ডপের কাছাকাছি পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখা গেল।
Flipkart Minutes VIP Pass-এ উল্লেখিত প্যান্ডেলের তালিকা
- Badamtala Ashar Sangha
- Mudiali
- Santosh Mitra Square
- College Square
- Kashi Bose Lane
- Barisha Club
- Singhi Park
- Jodhpur Park
- Santoshpur Pally
- Lake Gardens
- Deshapriya Park
- Naktala Udayan Sangha
- Tridhara Sammilani
- Ekdalia Evergreen
- Tala Prattoy
- Hatibagan Sarbojanin
- Chetla Agrani
- Hindustan Park Sarbojanin
- Chetlabagan Sarbojanin
- Chorebagan Sarbojanin
- Haridevpur Adarsha Samiti Club
- Baral Bagan Sarbojanin
- Babubagan Sarbojanin
- Tarun Dal
- Jodhpur Park Sarbojanin
- SB Park Sarbojanin Durga Puja
- Deshapriya Park
- Luminous Park
- New Town Sarbojanin
- Bhowanipore 75 Palli
- Bosepukur Sitala Mandir
- Naktala Udayan Sangha

পাসে লেখা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:
ONE BAND, VALID FOR ONE PERSON, FOR ONE DAY. NO CHEATING, MA SHOB DEKHCHHEN!
এছাড়াও লেখা রয়েছে, “DON’T MISS VIP SURPRISES ALONG THE WAY!”
VIP লাইনে দাঁড়িয়েও মিলল না প্রত্যাশিত সুবিধা
মণ্ডপ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আমরা Flipkart Minutes-এর VIP পাসধারীদের জন্য একটি আলাদা লাইন দেখতে পাই। সেখানে অনেক মানুষ পাস হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আমরাও সেই লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি, VIP লাইনে ভিড় যথেষ্ট বেশি। আমাদের চোখে সাধারণ লাইনের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে ফাঁকা মনে হয়েছিল। VIP লাইনে দুজন পাশাপাশি দাঁড়ানোর মতো জায়গাও ছিল না, ফলে সামনে এগোনো কঠিন হয়ে পড়ছিল।
আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে অভিজ্ঞতা। যে পাস কেনার উদ্দেশ্য ছিল সময় বাঁচানো, সেই পাস ব্যবহার করেই এতটা সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়।
প্রশ্ন উঠল, VIP পাসের মাধ্যমে যদি দ্রুত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া না যায়, তাহলে সেই পাস কেনার প্রকৃত উপযোগিতা কোথায়?
VIP গেটের সামনে পৌঁছেও মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারলাম না
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আমরা VIP প্রবেশপথের কাছে পৌঁছই। সেখানে Flipkart Minutes-এর নাম লেখা একটি গেট দেখতে পাই। কিন্তু সেখানেও মণ্ডপে ঢোকার অনুমতি পাইনি।
আমাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গেটের কাছে থাকা পুলিশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা VIP পাস থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রবেশ করতে দেননি। পরিবর্তে সাধারণ দর্শনার্থীদের লাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, প্রথমে দীর্ঘ পথ হাঁটা, তারপর VIP লাইনে অপেক্ষা এবং শেষে আবার সাধারণ লাইনে ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তাহলে VIP পাস কিনে লাভ কী হল? যদি শেষ পর্যন্ত সাধারণ লাইনে দাঁড়াতেই হয়, তাহলে আলাদা পাসের জন্য টাকা খরচ করার অর্থ কোথায়?
এই অভিজ্ঞতায় আমাদের সময়ও নষ্ট হয়েছে, শারীরিক কষ্টও বেড়েছে। তবে পাসের শর্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে এই ঘটনাকে সরাসরি প্রতারণা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পাসের অনুমোদন। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় তাদের নিজস্ব অনুমোদিত VIP প্রবেশপত্রের কথা বলা হয়েছিল বলে আমরা দেখতে পাই। Flipkart Minutes-এর পাস সেই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।
যদি পাসটি সংশ্লিষ্ট পুজো মণ্ডপে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত না হয়ে থাকে, তাহলে বিক্রির আগে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত ছিল। আর যদি অনুমোদন থেকে থাকে, তাহলে প্রবেশপথে পাসটি গ্রহণ করা হয়নি কেন, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
পাসের প্রচার, বিক্রয়-শর্ত এবং মণ্ডপের প্রবেশের নিয়মের মধ্যে কোনও অসংগতি ছিল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে বেরোতেও সমস্যা
মণ্ডপে প্রবেশের সমস্যার পর বেরিয়ে আসার সময়ও আমরা যথেষ্ট অসুবিধায় পড়ি। চারদিকে প্রচুর মানুষের ভিড় থাকায় কোন পথে বেরোতে হবে, তা বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল। স্পষ্ট সাইনবোর্ড ও পথনির্দেশের অভাব আমাদের অভিজ্ঞতায় আরও ভোগান্তি বাড়িয়েছিল।
কলকাতার জনপ্রিয় পুজোগুলিতে বিপুল ভিড় হওয়া স্বাভাবিক। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, বিকল্প রাস্তা এবং জরুরি নির্দেশিকা স্পষ্ট রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এরপর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতিতে যাত্রা
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের অভিজ্ঞতায় আমরা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবুও অন্য একটি বিখ্যাত পুজো দেখার আশায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির দিকে রওনা দিই।
চোরবাগান কলকাতার পরিচিত দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। ২০২৬ সালে এই পুজোর ৯১তম বর্ষ এবং ‘Beyond Sound’ বা ‘অরব’ নামে একটি থিমের উল্লেখ আমরা দেখেছিলাম।
আমরা ভেবেছিলাম, এখানেও VIP পাস থাকলে অন্তত কিছুটা সময় বাঁচানো যাবে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে বেরিয়ে আসার সময় রাস্তা খুঁজতে সমস্যা হওয়ায় Google Maps ও AasPaas-এর মতো লোকেশন পরিষেবার সাহায্যে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করি।
চোরবাগানে VIP পাস নিয়ে আবার বিভ্রান্তি
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে পৌঁছে আমরা আরও একটি দীর্ঘ লাইনের মুখে পড়ি। সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল প্রচুর।
তবে আমাদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় কিছুটা আলাদা ছিল। আমরা গলিপথ দিয়ে এগিয়ে এসে মূল লাইনের একটি অংশে প্রবেশ করতে পেরেছিলাম। ফলে অন্য অনেক দর্শনার্থীর তুলনায় আমাদের অপেক্ষা কম হয়েছিল। এই সুবিধা VIP পাসের কারণে হয়েছিল, এমন দাবি আমরা করছি না।
কিন্তু লাইনে দাঁড়ানোর পর মাইকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল যে Flipkart Minutes-এর VIP পাস গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হচ্ছে। এতে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি।
কারণ, আমাদের কাছে থাকা পাসের সঙ্গে চোরবাগান পুজোর নাম যুক্ত ছিল বলে আমরা আগে প্রচার দেখেছিলাম। চোরবাগান পুজো কমিটির সামাজিক মাধ্যমে এই পাস সম্পর্কে কী ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আমাদের কাছে পাসের ছবি এবং প্রচার-সংক্রান্ত কিছু প্রমাণ রয়েছে। কোনও পুজো মণ্ডপের নাম ব্যবহার করে VIP প্রবেশের প্রচার করা হলে, সেই পুজো কমিটি সত্যিই ওই পাস অনুমোদন করেছিল কি না, তা ক্রেতাদের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।
পাসের প্রচার সরানো হয়েছে কি?
আমাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চোরবাগান পুজো সম্পর্কিত সামাজিক মাধ্যমে VIP পাসের প্রচার দেখার পরই আমরা পাসটি নিয়ে আগ্রহী হয়েছিলাম। পরে সেই পোস্ট আর খুঁজে পাইনি বলে আমাদের মনে হয়েছে।
তবে পোস্টটি সত্যিই মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনও পোস্ট বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না বলেই যে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরানো হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
যদি পোস্টটি সরানো হয়ে থাকে, তাহলে কেন সরানো হয়েছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে।
এখানেই আমাদের মূল প্রশ্ন: Flipkart Minutes-এর VIP পাস যদি সংশ্লিষ্ট মণ্ডপে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত না হয়ে থাকে, তাহলে সেই পাসের প্রচার কীভাবে করা হয়েছিল? আর যদি অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে প্রবেশপথে তা গ্রহণ করা হয়নি কেন?
তাহলে কি VIP পাস কেনা প্রতারণা?
আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, VIP পাস কিনে যে সুবিধার প্রত্যাশা করেছিলাম, বাস্তবে তা পাইনি। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রবেশ করতে না পারা এবং চোরবাগানে পাসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আমাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তবে আইনগতভাবে প্রতারণা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে হলে পাসের বিক্রয়-শর্ত, বিজ্ঞাপনের ভাষা, সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির অনুমোদন এবং ক্রেতাদের কাছে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখা দরকার।
কোনও পরিষেবার বিজ্ঞাপনে যে সুবিধা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বাস্তবে তা না মিললে ক্রেতাদের অভিযোগ জানানোর অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বক্তব্য শোনাও জরুরি।
আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে যাচাই ছাড়া দোষী সাব্যস্ত করা নয়। আমরা চাই, যে প্রশ্নগুলি তৈরি হয়েছে, তার স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে অন্য দর্শনার্থীরা যেন একই সমস্যায় না পড়েন।
পুজোপ্রেমীদের জন্য জরুরি সতর্কতা
VIP পাস কেনার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন।
প্রথমত, অনুমোদন নিশ্চিত করুন। সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির অফিসিয়াল পেজ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জেনে নিন, তারা পাসটি গ্রহণ করছে কি না।
দ্বিতীয়ত, শর্ত পড়ুন। পাসটি বিশেষ লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে, নাকি নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে দ্রুত প্রবেশের সুবিধা দিচ্ছে, তা বুঝে নিন।
তৃতীয়ত, প্রমাণ রাখুন। বিজ্ঞাপন, মূল্য, শর্ত এবং পুজো মণ্ডপের নাম উল্লেখ করা প্রচারের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন।
চতুর্থত, অভিযোগ জানান। পাস থাকা সত্ত্বেও প্রবেশ করতে না দিলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা বিক্রেতার কাছে অভিযোগ করুন এবং অভিযোগের রেফারেন্স নম্বর রাখুন।
পঞ্চমত, প্রয়োজনে ভোক্তা হেল্পলাইনের সাহায্য নিন। সমস্যার সমাধান না হলে জাতীয় ভোক্তা হেল্পলাইন ১৯১৫ অথবা consumerhelpline.gov.in ব্যবহার করতে পারেন।
শুধু VIP লেখা দেখেই পাস কিনবেন না। সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির অনুমোদন এবং প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
Flipkart Minutes ও সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির কাছে প্রশ্ন
এই অভিজ্ঞতার পর কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি।
- ₹৪৯ মূল্যের VIP পাস ঠিক কী কী সুবিধা দেওয়ার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল?
- সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির সঙ্গে এই পাসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা চুক্তি ছিল কি?
- পাসে সংশ্লিষ্ট পুজোর নাম থাকলে, প্রবেশপথে সেটি গ্রহণ করা হয়নি কেন?
- প্রবেশের নিশ্চয়তা না থাকলে, সেই শর্ত ক্রেতাদের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল কি?
- যাঁরা পাস কিনেও প্রতিশ্রুত সুবিধা পাননি, তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা কী?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকেই পাওয়া উচিত।
শেষ কথা: পুজোর আনন্দ যেন ভোগান্তিতে পরিণত না হয়
দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ। এই সময় মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করতে, নতুন মণ্ডপ দেখতে এবং কলকাতার পুজোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
সেই আনন্দের মধ্যে সময় বাঁচানোর আশায় কোনও পাস কিনে যদি উল্টে আরও বেশি সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, প্রবেশ করা না যায় এবং বারবার বিভ্রান্তির মুখে পড়তে হয়, তাহলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
আমাদের ক্ষেত্রে Flipkart Minutes থেকে কেনা দুটি VIP পাস প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে পারেনি। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও চোরবাগানের অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রেখে গেছে। পাসের অনুমোদন, প্রচারের স্বচ্ছতা এবং প্রবেশের নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি।
আমি এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছি অন্য পুজোপ্রেমীদের সচেতন করার জন্য। কেউ যাতে শুধু VIP পাসের বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই না করে টাকা খরচ না করেন, সেটাই আমার অনুরোধ।
শুধু আমাদের নয়, VIP পাস নিয়ে উঠছে আরও প্রশ্ন
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতিতে VIP পাস নিয়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিষেবা নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য পোস্ট ও অভিযোগও নজরে এসেছে। বিভিন্ন পোস্টে আরও কিছু পুজো মণ্ডপে Flipkart Minutes-এর VIP পাস গ্রহণ না করা এবং সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির সঙ্গে কোনও চুক্তি বা অনুমোদন না থাকার দাবি করা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনও পুজো কমিটি পাস গ্রহণ করেনি বা তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি ছিল না, এমন দাবি সংশ্লিষ্ট কমিটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আমাদের প্রশ্ন একটাই: যে পুজো মণ্ডপে VIP প্রবেশের সুবিধা দেওয়ার কথা বলে পাস বিক্রি করা হচ্ছে, সেই মণ্ডপের অনুমোদন কি আগে থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে? যদি কোনও পুজো কমিটির সঙ্গে চুক্তি বা অনুমোদন না থাকে, তাহলে সেই বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। অন্যথায় দর্শনার্থীরা টাকা খরচ করে মণ্ডপে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে পারেন।
তাই পুজোপ্রেমীদের কাছে অনুরোধ, VIP পাস কেনার আগে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির অফিসিয়াল ঘোষণা যাচাই করুন। আর Flipkart Minutes-এর কাছে দাবি, কোন কোন পুজো মণ্ডপে তাদের পাস বৈধ, কোথায় প্রবেশের সুবিধা নিশ্চিত এবং কোথায় কোনও অনুমোদন নেই, তার একটি পরিষ্কার তালিকা প্রকাশ করা হোক।
পাস কেনার আগে যাচাই করুন, শর্ত পড়ুন, প্রমাণ রাখুন এবং সমস্যায় পড়লে অভিযোগ জানান। পুজোর আনন্দ উপভোগ করুন, কিন্তু নিজের সময় ও টাকা খরচ করার আগে সচেতন সিদ্ধান্ত নিন।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা উচিত। কারণ, স্বচ্ছতা থাকলে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
