আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিষেধাজ্ঞা | TCS, Infosys, Wipro-সহ ৮ সংস্থার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

US Green Card Suspension 2026: আমেরিকায় কাজ করার স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। বিশেষ করে H-1B ভিসার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার পর গ্রিন কার্ড পাওয়ার আশা করেন অনেকেই। কিন্তু সেই পথেই এবার বড় বাধার মুখে পড়তে পারেন TCS, Infosys, Wipro, HCL-সহ একাধিক বড় প্রযুক্তি সংস্থার কর্মীরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আটটি প্রযুক্তি সংস্থাকে গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় Permanent Labor Certification বা PERM কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে। তালিকায় রয়েছে Microsoft, Adobe, Cognizant, Infosys, Tata Consultancy Services (TCS), Wipro, HCL Technologies এবং Capgemini। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের ফলে আমেরিকার নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য নতুন PERM আবেদন করা এবং ইতিমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলির প্রক্রিয়াকরণও আটকে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে আমেরিকায় কর্মরত বহু ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

US Green Card Suspension: কোন কোন সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ?

মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় মোট আটটি সংস্থার নাম উঠে এসেছে।

সংস্থার নাম ক্ষেত্র
Microsoft সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি
Adobe সফটওয়্যার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি
Cognizant আইটি পরিষেবা
Infosys আইটি পরিষেবা
Tata Consultancy Services (TCS) আইটি পরিষেবা
Wipro আইটি পরিষেবা
HCL Technologies আইটি ও প্রযুক্তি পরিষেবা
Capgemini আইটি ও পরামর্শ পরিষেবা

এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা মার্কিন শ্রম দফতর জানিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত নিল ট্রাম্প প্রশাসন?

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু সংস্থা বিদেশি কর্মীদের তুলনামূলক কম বেতনে নিয়োগ করে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে PERM কর্মসূচিতে সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ এবং তার চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রত্যেকটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোরও অবকাশ নেই।

PERM কী? গ্রিন কার্ডের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?

PERM হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত কোনও সংস্থা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করতে চাইলে আগে শ্রম দফতরের কাছে প্রমাণ করতে হয় যে ওই নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি, কাজের পরিবেশ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

PERM প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীর গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপগুলিতে এগোতে পারেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, PERM প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা মানেই H-1B ভিসা বাতিল নয়। এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন আটকে যেতে পারে, কিন্তু বর্তমানে H-1B ভিসায় কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়।

US Green Card Suspension: ভারতীয় আইটি কর্মীদের কতটা প্রভাব পড়তে পারে?

ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদারদের কাছে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র। অনেকেই H-1B ভিসায় কাজ শুরু করার পর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদন প্রক্রিয়া আটকে গেলে তাঁদের স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে।

বিশেষ করে যাঁদের PERM আবেদন এখনও জমা পড়েনি বা যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়তে পারে। গ্রিন কার্ড পেতে দেরি হলে চাকরি পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি এক নয়। তাঁদের বর্তমান ভিসার মেয়াদ, আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রযোজ্য অভিবাসন আইন অনুযায়ী কী বিকল্প রয়েছে, তার ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কার ২০২৬: পদার্থবিদ্যায় ফ্রান্সিস হালজেন, অ্যান্টার্কটিকার বরফে ‘অদৃশ্য কণা’ ধরেই বিশ্বজয়

২০০৯ সাল থেকে কত আবেদন করা হয়েছে?

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং ভিসা বা শ্রম-সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ সময়ের তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ২০০৯ সাল থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি H-1B অনুমোদন এবং ১ লক্ষের বেশি শ্রম-সার্টিফিকেশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: H-1B অনুমোদন, PERM শ্রম-সার্টিফিকেশন এবং গ্রিন কার্ড পাওয়া এক বিষয় নয়। তাই এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি তিন লক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ বা সমসংখ্যক মার্কিন নাগরিকের চাকরি হারানোর প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

US Green Card Suspension: আগামী দিনে কী হতে পারে?

এই সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এবং তাদের বিদেশি কর্মীদের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। PERM প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলে গ্রিন কার্ডের জন্য নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতি এবং স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ওপরও বাড়তি নজরদারি দেখা যেতে পারে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা কত দিন কার্যকর থাকবে, ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন হবে এবং প্রতিটি সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভারতীয় আইটি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে H-1B ভিসায় কর্মরত প্রত্যেক ভারতীয়ের চাকরি বা আমেরিকায় থাকার অনুমতি অবিলম্বে বিপদের মুখে পড়েছে, এমন দাবি করা সঠিক হবে না।

Know More: Click Here

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News