সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB Vishwakarma Yojana 2026: পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। PM Vishwakarma Yojana-র বাস্তবায়ন এবার রাজ্যে শুরু হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে সামনে আনা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পটি অবশ্য দেশজুড়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে চালু হয়েছিল।
কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমোর, স্বর্ণকার, মুচি, রাজমিস্ত্রি, দর্জি, নাপিত, ধোপা, মালাকার-সহ মোট ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রয়েছে সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড, টুলকিটের জন্য ₹১৫,০০০ পর্যন্ত সহায়তা, কম সুদে ঋণ এবং ডিজিটাল লেনদেন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা।
PM Vishwakarma Yojana আসলে কী?
PM Vishwakarma হল কেন্দ্রীয় MSME মন্ত্রকের একটি প্রকল্প, যার লক্ষ্য ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের পরিচিতি, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জাম, ঋণ, ডিজিটাল লেনদেন এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দেওয়া।
পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য পর্যায়ে Monitoring Committee এবং জেলা পর্যায়ে Implementation Committee গঠন করা হয়েছে।
কারা WB PM Vishwakarma Yojana-তে আবেদন করতে পারবেন?
প্রকল্পের আওতায় মূলত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীরা আবেদন করতে পারেন। তাঁদের নিজের হাতে সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করতে হয়।
এই প্রকল্পে মোট ১৮টি ট্রেড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেগুলি হল:
- Carpenter বা কাঠমিস্ত্রি
- Boat Maker বা নৌকা নির্মাতা
- Armourer
- Blacksmith বা কামার
- Hammer and Tool Kit Maker
- Locksmith বা তালাচাবি প্রস্তুতকারক
- Goldsmith বা স্বর্ণকার
- Potter বা কুমোর
- Sculptor/Stone Carver/Stone Breaker
- Cobbler/Shoesmith/Footwear Artisan
- Mason বা রাজমিস্ত্রি
- Basket/Mat/Broom Maker ও Coir Weaver
- Traditional Doll & Toy Maker
- Barber বা নাপিত
- Garland Maker বা মালাকার
- Washerman বা ধোপা
- Tailor বা দর্জি
- Fishing Net Maker বা মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক।
নতুন করে কি ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে?
যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় এখনও আবেদন করেননি, তাঁদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে PM Vishwakarma-তে আবেদন করতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নিকটবর্তী Common Service Centre বা CSC-তে যোগাযোগ করা যায়।
পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয়ভাবে তথ্য মিত্র কেন্দ্র বা CSC থেকেও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
তবে কেউ আগে থেকেই PM Vishwakarma-তে আবেদন করে থাকলে তাঁকে আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে কি না, তা তাঁর বর্তমান আবেদন/ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাসের উপর নির্ভর করবে। তাই আগে আবেদন করা থাকলে নতুন আবেদন করার আগে CSC-তে নিজের স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়া ভালো।
WB Vishwakarma Yojana: আবেদন করার পর কী হয়?
PM Vishwakarma-তে আবেদন করলেই সরাসরি সমস্ত সুবিধা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং পেশার তথ্য ধাপে ধাপে যাচাই করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের যাচাইয়ের পর জেলা স্তরে স্ক্রিনিং ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যে আবেদনকারীদের তিন-ধাপের verification প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
অর্থাৎ, আবেদন → স্থানীয় যাচাই → জেলা পর্যায়ের যাচাই/স্ক্রিনিং → অনুমোদন → প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা, এই ধারায় প্রক্রিয়াটি এগোয়।
কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
PM Vishwakarma-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি শুধু একটি প্রশিক্ষণ প্রকল্প নয়। অনুমোদিত সুবিধাভোগীদের জন্য একাধিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
১. PM Vishwakarma Certificate ও ID Card
যোগ্য কারিগরদের PM Vishwakarma Certificate এবং ID Card দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রকল্পের আওতায় তাঁদের স্বীকৃতি তৈরি হয়।
২. বিনামূল্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ
কারিগরদের জন্য Basic এবং Advanced Skill Training-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
Basic Training সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের, আর Advanced Training ১৫ দিন বা তার বেশি হতে পারে। প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন ₹৫০০ করে stipend এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ₹১,০০০ transport allowance-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।
৩. Rs.১৫,০০০ পর্যন্ত Toolkit Incentive
প্রশিক্ষণের শুরুতে যোগ্য সুবিধাভোগীদের আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য Rs.১৫,০০০ পর্যন্ত toolkit incentive দেওয়া হয় e-voucher-এর মাধ্যমে।
৪. সর্বোচ্চ Rs.৩ লক্ষ পর্যন্ত ঋণ
প্রকল্পের অধীনে collateral-free Enterprise Development Loan-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
ঋণটি দুই ধাপে দেওয়া হয়:
- প্রথম ধাপ: সর্বোচ্চ Rs.১ লক্ষ
- দ্বিতীয় ধাপ: সর্বোচ্চ Rs.২ লক্ষ
- মোট: Rs.৩ লক্ষ পর্যন্ত
এই ঋণের concessional interest rate ৫% নির্ধারিত রয়েছে। প্রথম ধাপের ঋণের জন্য Basic Training সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন। দ্বিতীয় ধাপের ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম ঋণ সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।
৫. ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ
ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসার টাকা গ্রহণ বা পরিশোধ করলে incentive পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে Rs.১, সর্বোচ্চ মাসে ১০০টি লেনদেন পর্যন্ত incentive দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৬. বাজারজাতকরণে সহায়তা
শুধু ঋণ বা প্রশিক্ষণ নয়, কারিগরদের তৈরি পণ্য যাতে আরও বড় বাজারে পৌঁছাতে পারে, তার জন্যও marketing support রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
- Quality Certification
- Branding
- E-commerce platform-এ onboarding
- GeM-এর মাধ্যমে বাজারের সুযোগ
- Advertisement ও publicity
- Trade fair ও অন্যান্য marketing activities
কলকাতায় কী হয়েছে?
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে PM Vishwakarma প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় MSME মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং কারিগরদের সহায়তার বিভিন্ন দিক সামনে আনা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি দেশজুড়ে ৩০ লক্ষ কারিগর ও শিল্পীকে নিবন্ধনের মাইলফলক পার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নতুন করে গতি পাওয়ার পর রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের মধ্যে এর সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য থেকে আগামী এক বছরে প্রায় ২ লক্ষ কারিগর ও শিল্পীকে প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
WB PM Vishwakarma Yojana: আবেদন করতে কোথায় যাবেন?
PM Vishwakarma-র আবেদন করতে নিকটবর্তী:
CSC বা Common Service Centre
- প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে যেতে হবে।
- নিজের পেশার সঠিক তথ্য দিতে হবে।
- Aadhaar ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর verification status সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যাবে।
সরকারি নির্দেশিকাতেও অনলাইন আবেদনের জন্য নিকটবর্তী CSC-তে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এক নজরে WB Vishwakarma Yojana
| বিষয় | তথ্য |
| প্রকল্প | PM Vishwakarma |
| পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়ন | ২০২৬ সালে শুরু |
| জাতীয়ভাবে চালু | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ |
| বয়স | ১৮ বছর বা তার বেশি |
| পেশা | ১৮টি ঐতিহ্যবাহী ট্রেড |
| Certificate | PM Vishwakarma Certificate |
| ID Card | রয়েছে |
| Basic Training | ৫-৭ দিন |
| Advanced Training | ১৫ দিন বা তার বেশি |
| Training Stipend | Rs.৫০০/দিন |
| Toolkit Incentive | সর্বোচ্চ Rs.১৫,০০০ |
| ঋণ | সর্বোচ্চ Rs.৩ লক্ষ |
| ঋণের সুদ | ৫% concessional rate |
| Digital Incentive | Rs.১/যোগ্য লেনদেন, সর্বোচ্চ ১০০টি/মাস |
| আবেদন | CSC-এর মাধ্যমে |
গুরুত্বপূর্ণ কথা
PM Vishwakarma Yojana নতুন করে ২০২৬ সালে দেশজুড়ে চালু হয়নি। প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে চালু করেছিল। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে এর বাস্তবায়ন/রোল-আউট শুরু হয়েছে। তাই “নতুন বিশ্বকর্মা যোজনা” বলতে মূলত পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটির নতুন করে বাস্তবায়ন বোঝানো হচ্ছে।
আবেদন করার আগে নিজের পেশাটি ১৮টি অনুমোদিত ট্রেডের মধ্যে রয়েছে কি না এবং আবেদন/ভেরিফিকেশনের বর্তমান স্ট্যাটাস কী, তা CSC বা সরকারি PM Vishwakarma পোর্টালের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
