১০ লক্ষ টাকায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর | রাজ্যজুড়ে ৫০০ ভুয়া চিকিৎসকের অভিযোগ, নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

500 Fake Doctors in West Bengal: চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে ব্যবহার এবং ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগী দেখানোর অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় উদ্বেগ। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০০ জন ভুয়া চিকিৎসক বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে অনিয়ম এবং মোটা টাকার বিনিময়ে সেই নম্বর পাইয়ে দেওয়ার একটি চক্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রার্থী-পিছু প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।

Fake Doctors in West Bengal: এমবিবিএস না পড়েও চিকিৎসক?

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হল, কয়েকজনের নামের পাশে MBBS, MD-এর মতো ডিগ্রি উল্লেখ থাকলেও তাঁরা আদৌ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় বসেননি, এমন দাবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে এমন বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, জাল বা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হলে সাধারণ রোগীর পক্ষে প্রকৃত চিকিৎসক এবং ভুয়া চিকিৎসকের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর?

সংবাদ প্রতিবেদনে Association of Private Hospitals and Nursing Homes-এর পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রার্থী-পিছু প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের নেপথ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের একটি চক্র কাজ করে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি এই ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র যুক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্তের দাবি

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল কাউন্সিলের কয়েকজন পদাধিকারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।

Fake Doctors in West Bengal: দুই ‘ভুয়া ডাক্তার’-এর সন্ধান, অভিযোগ আরও গুরুতর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অন্তত দুই ব্যক্তির চিকিৎসক পরিচয় এবং ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ডা. জুলফিকার মণ্ডল এবং অন্যজন ডা. শেখ সাইদুর হক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Fake Doctors in West Bengal | 10 lakh Medical Council registration fraud
Fake Doctors in West Bengal | 10 lakh Medical Council registration fraud

জুলফিকার মণ্ডলের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল কাউন্সিলের একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরের উল্লেখ রয়েছে। তাঁর নামে দুটি নার্সিংহোম থাকার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নিউটাউনের ডিডি ব্লকে এবং অন্যটি বারাসতের বামুনপাড়ায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিহারের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁর MBBS পাশ করার দাবিকে মিথ্যা বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বা নথিপত্রের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসার সময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাতেও উঠে এল নাম

এই জাল চিকিৎসক চক্রের সন্ধান কীভাবে সামনে এল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও প্রতিবেদনে রয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানে সামান্য ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই তদন্তকারীরা আরও এক চিকিৎসকের সন্ধান পান বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই চিকিৎসকের নাম শেখ সাইদুর হক। তাঁর ডিগ্রি এবং চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোমে তিনি সার্জন হিসেবে কাজ করতেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ তদন্ত ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় ১ লক্ষ টাকা সহায়তা, এবার আবেদন করলেই মিলবে সরকারি অনুদান

স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় প্রশ্ন

ভুয়া ডিগ্রি, জাল রেজিস্ট্রেশন বা অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা করলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, রোগীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করেই চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ফলে ভুয়া চিকিৎসকের হাতে চিকিৎসা গেলে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ বা ভুল অস্ত্রোপচারের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এমন কোনও চক্র সত্যিই সক্রিয় থাকলে শুধু একজন বা দু’জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে তৈরি, যাচাই এবং অনুমোদিত হয়, সেই পুরো প্রক্রিয়াই খতিয়ে দেখা দরকার।

সামনে কী?

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অভিযোগগুলির স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত। কার শিক্ষাগত যোগ্যতা সত্য, কার রেজিস্ট্রেশন বৈধ, কোথা থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এসেছে এবং কোনও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, সবকিছু নথি ও সরকারি রেকর্ড মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নাম, ডিগ্রি এবং বৈধ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই মুহূর্তে ৫০০ ভুয়া চিকিৎসকের অভিযোগ এবং ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার দাবি তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তে প্রকৃত তথ্য সামনে এলেই বোঝা যাবে অভিযোগের ব্যাপ্তি কতটা এবং এর পিছনে কারা জড়িত।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News