সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য সাংবাদিকদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে ‘পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন যোজনা ২০২৬’ চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য সাংবাদিকরা প্রতি মাসে ৫,০০০ করে পেনশন পাবেন।
রাজ্য বাজেটে এই পেনশন বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগের West Bengal Pension Scheme for Journalists, 2018-এর অধীনে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসে ২,৫০০ করে দেওয়া হত। ২০২৬ সালের বাজেটে সেই পেনশনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫,০০০ করার ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপর নতুন করে যোগ্যতা ও আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা।
কেন এই সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প?
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার পর অবসর নেওয়া অনেক সাংবাদিকের নিয়মিত আয়ের উৎস থাকে না। সংবাদ সংগ্রহ, রিপোর্টিং, চিত্র সাংবাদিকতা বা ক্যামেরা পার্সনের মতো পেশায় দীর্ঘ সময় কাজ করার পর অবসরের সময়ে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাজ্য সরকারের পুরনো সাংবাদিক পেনশন প্রকল্পেও মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া। ২০১৮ সালের সরকারি নথিতে এই প্রকল্পের অধীনে মাসিক পেনশনের বিধান ছিল।
২০২৬ সালে সেই সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৫,০০০ করা হয়েছে।
কারা সাংবাদিক পেনশন পাবেন?
সব সাংবাদিক এই পেনশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রকাশিত ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলি হল:
১. বয়স কমপক্ষে ৬০ বছর
আবেদন করার সময় সাংবাদিকের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
২. পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে
আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং ভোটার তালিকায় নাম থাকার শর্তের কথাও প্রকাশিত নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রয়োজন
অবসর নেওয়ার আগে আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক, সংবাদ প্রতিনিধি বা ক্যামেরা পার্সন হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ বা সংবাদ প্রযোজনার কাজে কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৪. Accreditation Card থাকলে বিশেষ সুবিধা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ বছরের Accreditation-এর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৮ সালের সরকারি স্কিমে বলা হয়েছিল, সরকারি Accreditation-এর মোট সময় ১০ বছর হলে, সেই সময়ের মধ্যে বিরতি থাকলেও তা গণনায় ধরা যেতে পারে।
৫. Accreditation Card না থাকলেও সুযোগ রয়েছে
সরকারি Accreditation Card না থাকলেও যোগ্য সাংবাদিক আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিতে হবে। প্রকাশিত ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, Accreditation না থাকা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকলে যোগ্যতা বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্তমানে চাকরি করলে কি পেনশন পাওয়া যাবে?
এখানে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এই প্রকল্প মূলত অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য। আবেদনকারী বর্তমানে নিয়মিত চাকরিতে থাকলে এই পেনশনের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আবেদনকারী বর্তমানে নিয়মিত চাকরিতে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না এবং অন্য কোনও উৎস থেকে নিয়মিত পেনশনও গ্রহণ করা যাবে না। তবে নিজের অবদানের ভিত্তিতে পাওয়া EPF বা ব্যক্তিগত পেনশন স্কিমের ক্ষেত্রে পুরনো সরকারি নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল।
মাসিক আয়ের সীমা কত?
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হল আয়ের সীমা। ২০২৬ সালের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বর্তমান মাসিক আয় ১০,০০০-এর বেশি হওয়া যাবে না। অর্থাৎ অবসর নেওয়ার পরও যদি আবেদনকারীর নিয়মিত মাসিক আয় ₹১০,০০০-এর বেশি হয়, তাহলে তিনি এই পেনশনের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। তবে আয় সংক্রান্ত শর্তের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়া উচিত।
১ সেপ্টেম্বর থেকেই আবেদন শুরু
এই প্রকল্পের জন্য ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটি সাধারণ সরকারি অনলাইন পেনশন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং অফলাইনে আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদনের প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এইভাবে হবে:
- তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
- আবেদনপত্রে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, বয়স, ঠিকানা, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, অবসরের তথ্য, আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথির কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
- নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার ঠিকানা:
পরিচালক, তথ্য অধিদপ্তর
তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগ
পশ্চিমবঙ্গ সরকার
নবান্ন, হাওড়া
গুরুত্বপূর্ণ: সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে সাংবাদিক পেনশন সংক্রান্ত যে ফর্মটি দেখা যাচ্ছে, সেটি West Bengal Pension Scheme for Journalists, 2018-এর ফর্ম। ২০২৬-এর নতুন আবেদনপত্র প্রকাশিত হলে সেটিই ব্যবহার করা উচিত।
কী কী নথি লাগতে পারে?
এখানে ২০২৬ সালের নতুন বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে পুরনো সরকারি স্কিমের নথির কিছুটা মিল রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফর্মের সঙ্গে নথিগুলি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
পুরনো সরকারি সাংবাদিক পেনশন স্কিমে নিম্নলিখিত নথিগুলি চাওয়া হয়েছিল:
- বয়সের প্রমাণপত্র
- মাসিক আয়ের প্রমাণপত্র
- Non-employment Certificate
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Press Accreditation Card-এর কপি, যদি থাকে
- প্রয়োজনীয় Affidavit/Declaration
- সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার প্রমাণ
- প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি
২০১৮ সালের সরকারি স্কিমে আয় ও বেকারত্ব/চাকরিতে না থাকার শংসাপত্র Group-A Government Officer-এর মাধ্যমে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য ও Accreditation Card-এর কপিও প্রয়োজন ছিল।
তাই আগে থেকেই যা প্রস্তুত রাখতে পারেন
১. বয়সের প্রমাণ
Aadhaar, ভোটার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র বা সরকার স্বীকৃত বয়সের নথি।
২. ঠিকানার প্রমাণ
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের প্রমাণ এবং ভোটার সংক্রান্ত নথি।
৩. সাংবাদিকতার প্রমাণ
অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট, নিয়োগপত্র, সংবাদমাধ্যমের শংসাপত্র, পুরনো পরিচয়পত্র বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ।
৪. Accreditation Card
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Press Accreditation Card থাকলে তার কপি।
৫. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা পেতে চান তার প্রয়োজনীয় বিবরণ।
৬. ছবি
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৭. আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র
বর্তমান মাসিক আয় ₹১০,০০০-এর মধ্যে রয়েছে কি না, তার প্রমাণ।
৮. অবসর ও বর্তমানে চাকরিতে না থাকার প্রমাণ
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি বা শংসাপত্র।
৯. Affidavit/Declaration
সরকার নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রয়োজনীয় ঘোষণাপত্র।
Accreditation Card না থাকলে কী করবেন?
এটি অনেক সাংবাদিকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। Accreditation Card না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রমাণ দিতে হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Accreditation না থাকলে ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা দেখাতে হতে পারে। তাই পুরনো সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র, অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট, প্রকাশিত রিপোর্টের নথি বা কর্তৃপক্ষ গ্রহণযোগ্য অন্যান্য প্রমাণ আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা ভালো।
আগে Accreditation ছিল, পরে Renewal হয়নি, তাহলে?
এ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি নিয়মে Accreditation-এর মোট সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং মাঝখানে বিরতি থাকলেও মোট ১০ বছরের Accreditation-এর সময় গণনা করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
২০২৬ সালের প্রকাশিত তথ্যেও একই ধরনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আগে Accreditation Card থাকলেও কোনও সময় Renewal না হয়ে থাকলে শুধু সেই কারণে আবেদন থেকে বাদ পড়বেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুধু পেনশন নয়, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য বিমাতেও অন্তর্ভুক্তি
সাংবাদিকদের জন্য ২০২৬ সালে শুধু পেনশন নয়, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাংবাদিকদের জন্য পেনশন এবং স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত দুটি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনার কথা জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:
অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য সাংবাদিকদের জন্য মাসিক পেনশন
এবং
যোগ্য সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য বিমা সুবিধার আওতায় আনা।
স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে পুরনো নিয়মে কী ছিল?
পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য আগে থেকেই Maavoi – West Bengal Health Scheme for the Journalists, 2016 নামে একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প ছিল। সেই পুরনো ব্যবস্থায় সরকারি Accreditation থাকা সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট নিয়মে স্বাস্থ্য সুবিধার আওতায় আনার কথা ছিল।
পুরনো স্বাস্থ্য প্রকল্পে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট বিধান ছিল। তবে ২০২৬ সালের নতুন স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থায় কারা, কতটা এবং কীভাবে সুবিধা পাবেন, তার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে ধরা উচিত।
কারা এই প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
এই উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে:
- অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য
- দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকা সংবাদ প্রতিনিধিদের জন্য
- চিত্র সাংবাদিকদের জন্য
- ক্যামেরা পার্সনদের জন্য
- দীর্ঘদিন কাজ করা কিন্তু Accreditation না থাকা সাংবাদিকদের জন্য
- অবসরের পর যাঁদের নিয়মিত আয় কমে গিয়েছে, তাঁদের জন্য
তবে শুধু সাংবাদিক পরিচয় থাকলেই হবে না। বয়স, অভিজ্ঞতা, আয়, অবসর এবং অন্যান্য সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে।
পেনশন কি পরিবারের সদস্যরা পাবেন?
পুরনো ২০১৮ সালের সরকারি স্কিমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে এই পেনশন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
২০২৬ সালের নতুন স্কিমে পরিবারভিত্তিক পেনশন বা Family Pension-এর কোনও নতুন বিধান থাকলে সেটি আলাদা সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট হবে। তাই শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে পরিবারের সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই পেনশন পাবেন বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বছরে কি পেনশন Renew করতে হবে?
পুরনো সাংবাদিক পেনশন স্কিমে বার্ষিক Renewal-এর ব্যবস্থা ছিল। প্রতি অর্থবর্ষের শেষে যোগ্যতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হত। আয় ও চাকরিতে না থাকার শংসাপত্রের পাশাপাশি Life Certificate-ও প্রয়োজন হতে পারত।
২০২৬ সালের নতুন নিয়মেও যদি একই ব্যবস্থা রাখা হয়, তাহলে পেনশন চালু রাখার জন্য সময়মতো Renewal করতে হবে। নতুন নির্দেশিকায় বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
কত টাকা পেনশন পাওয়া যাবে?
২০২৬ সালের বাজেট ঘোষণায় অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশন ৫,০০০ করার কথা জানানো হয়েছে। আগের ২০১৮ সালের প্রকল্পে মাসিক পেনশন ছিল ২,৫০০ এবং সরকারি বাজেট নথিতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৫৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক এই সুবিধা পাচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় যোগ্যতা পূরণকারী সাংবাদিকদের জন্য মাসিক সহায়তা দ্বিগুণ হয়েছে।
আবেদন করার আগে এই বিষয়গুলি অবশ্যই মনে রাখুন
প্রথমত, বয়স ৬০ বছর হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনশন পাওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকতার নির্দিষ্ট সময়ের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, Accreditation Card থাকলে তার সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থত, Accreditation না থাকলে দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
পঞ্চমত, বর্তমান আয় ১০,০০০-এর সীমার মধ্যে থাকতে হবে বলে প্রকাশিত নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
ষষ্ঠত, বর্তমানে নিয়মিত চাকরিতে থাকলে যোগ্যতার সমস্যা হতে পারে।
সপ্তমত, অন্য কোনও নিয়মিত সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক পেনশন থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে।
অষ্টমত, আবেদন করার সময় ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নথি দিলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
এক নজরে সাংবাদিক পেনশন যোজনা ২০২৬
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প | পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন যোজনা ২০২৬ |
| পেনশন | মাসে ৫,০০০ |
| আবেদন শুরু | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ন্যূনতম বয়স | ৬০ বছর |
| সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা | সাধারণভাবে কমপক্ষে ১০ বছর |
| Accreditation না থাকলে | ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে |
| বর্তমান মাসিক আয় | ১০,০০০-এর বেশি নয় |
| নিয়মিত চাকরি | থাকা যাবে না |
| আবেদন পদ্ধতি | অফলাইন বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে |
| দফতর | তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগ |
| জমার ঠিকানা | পরিচালক, তথ্য অধিদপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, নবান্ন, হাওড়া |
উপরের যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতির তথ্য ২০২৬ সালের প্রকাশিত নির্দেশিকা এবং আগের সরকারি সাংবাদিক পেনশন স্কিমের নথি মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা
পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকদের জন্য ৫,০০০ মাসিক পেনশন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষার উদ্যোগ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করে অবসর নেওয়া এবং বর্তমানে কম আয়ের প্রবীণ সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই সহায়তা কার্যকর হতে পারে।
তবে আবেদন করার আগে ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ও সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ ২০১৮ সালের পুরনো নিয়মের সঙ্গে ২০২৬ সালের নতুন ব্যবস্থায় কিছু শর্ত বা নথির পরিবর্তন থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েবসাইটে বর্তমানে সাংবাদিক পেনশন সংক্রান্ত ২০১৮ সালের স্কিমের ফর্মও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু হচ্ছে বলে প্রকাশিত তথ্য রয়েছে। তাই যোগ্য সাংবাদিকরা আগে থেকেই বয়স, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, Accreditation, আয়, ব্যাংক এবং অবসর সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত রাখুন।
