সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে নাগরিকদের জন্য কার্যকর হয়েছে একাধিক কড়া নিয়ম। রাস্তাঘাট ও জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এলাকায় এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
সরকারের তরফে আগে থেকেই সচেতনতা প্রচার চালানো হয়েছিল। এবার সচেতনতার পাশাপাশি শুরু হয়েছে স্পট ফাইন বা ঘটনাস্থলেই জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা।
থুতু বা পানের পিক ফেললে ১০০ টাকা
রাস্তায় বা জনসাধারণের জায়গায় যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক ফেলা যাবে না। এমন ঘটনা ধরা পড়লে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের পুর আইনেও জনসাধারণের জায়গায় থুতু ফেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ করলে ২০০ টাকা
রাস্তা, ফুটপাত বা অন্য কোনও জনসাধারণের জায়গায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব কিংবা মলত্যাগের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গা বা শৌচাগার ব্যবহার না করে এমন কাজ করলে ২০০ টাকা জরিমানা হতে পারে।’
Read More : রাজ্যের দমকল বিভাগে বড় রদবদল, বদলি ২৪ আধিকারিকের
রাস্তায় আবর্জনা ফেললেও জরিমানা
বাড়ির বর্জ্য, প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট বা অন্যান্য আবর্জনা রাস্তায় কিংবা জনসাধারণের জায়গায় ফেলে পরিবেশ নোংরা করলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। সরকারের ঘোষিত নতুন ব্যবস্থায় এই ধরনের অপরাধের জন্য ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা জানানো হয়েছে।
আইনগতভাবেও পুর এলাকার রাস্তা বা জনসাধারণের জায়গায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কঠিন বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ।
নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারেও ২০০ টাকা
সিঙ্গল-ইউজ বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধেও এবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ক্যারি ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
দোকানের সামনে আবর্জনা জমিয়ে রাখলেও বিপদ
দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘক্ষণ আবর্জনা জমিয়ে রাখা নিয়েও প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনের সময় ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নিয়ম না মানলে জরিমানা ও অন্যান্য পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।
রাস্তায় ইট-বালি-পাথর ফেলে রাখলেও ব্যবস্থা
বাড়ি তৈরির সময় রাস্তা দখল করে ইট, বালি, পাথর বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার বিরুদ্ধেও ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। প্রশাসনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা ব্যক্তিগত নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় রাখার জন্য ছবিতে যে নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ক দেখানো হয়েছে, তার সরকারি নির্দিষ্ট পরিমাণ আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই এই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাকা উল্লেখ না করাই নিরাপদ।
বেআইনি পার্কিং নিয়েও কড়াকড়ি
পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শহরের পার্কিং ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বেআইনি বা অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং বন্ধ করতে পার্কিং জোন ও নো-পার্কিং জোন চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় রাতের পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত ফি-ও রয়েছে এবং KMC-এর পার্কিং ব্যবস্থায় রাতের পার্কিং আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ বেআইনি পার্কিংকে ছবির অন্যান্য ১০০ বা ২০০ টাকার স্পট ফাইনের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
আরও পড়ুন: রোজভ্যালির টাকা ফেরত | ১২ বছর পর নতুন উদ্যোগ, ২১টি হোটেলসহ সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব
জরিমানার মূল উদ্দেশ্য কী?
সরকারের বক্তব্য, শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করাই উদ্দেশ্য নয়। শহর ও পুর এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ তৈরি করা এবং রাস্তা ও জনসাধারণের জায়গাকে আবর্জনামুক্ত রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তাই রাস্তায় আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করা, প্রকাশ্যে থুতু বা পানের পিক না ফেলা, নির্দিষ্ট শৌচাগার ব্যবহার করা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলাই এখন থেকে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সোজা কথা, ১ সেপ্টেম্বর থেকে “আগে সচেতনতা, পরে জরিমানা” পর্যায় পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে নাগরিক নিয়ম মানানোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আরও কড়া হয়েছে। নিয়ম না মানলে পকেটেও চাপ পড়তে পারে, তাই নিজের পাশাপাশি শহরটাকেও পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরই।
নোট: জরিমানার পরিমাণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র পুরসভা/পুরনিগমের প্রযোজ্য আইন, বিধি ও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী হতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো পোস্টার দেখে সব ক্ষেত্রেই একই অঙ্কের জরিমানা হবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
