Super El Nino 2026-27: ২০২৭ সালে কি ভাঙবে তাপমাত্রার রেকর্ড? ভারতে কতটা প্রভাব পড়তে পারে

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Super El Nino 2026-27: প্রশান্ত মহাসাগরের জল ক্রমশ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-র সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের শেষভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে NOAA-র outlook-এ বলা হয়েছে, এই El Niño ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

আরও চমকপ্রদ তথ্য এসেছে ব্রিটেনের Met Office থেকে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান El Niño-র signal এতটাই শক্তিশালী যে এটি living memory-র সবচেয়ে বড় El Niño হতে পারে এবং ১৯শ শতাব্দীর পর থেকে অন্যতম শক্তিশালী ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। El Niño পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, ঝড়, খরা এবং কৃষির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর ভারতেও এর প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলা জরুরি: ২০২৭ সাল নিশ্চিতভাবে পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হবে, এমন কথা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী El Niño সেই সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

Super El Nino কী?

প্রথমেই বুঝে নেওয়া যাক, El Niño আসলে কী।

El Niño হলো El Niño-Southern Oscillation বা ENSO-র উষ্ণ পর্যায়। এই সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এই সমুদ্রের উষ্ণতা বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক circulation বা বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে দিতে পারে। ফলে পৃথিবীর এক প্রান্তে অতিরিক্ত বৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে কোনো অঞ্চলে দেখা দিতে পারে খরা বা তাপপ্রবাহ।

NOAA সাধারণত Niño-3.4 অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার anomaly-র ওপর ভিত্তি করে El Niño-র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আগস্ট ২০২৬-এর সরকারি ENSO discussion অনুযায়ী, পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা anomaly ইতিমধ্যেই +2°C-এর বেশি হয়েছে এবং El Niño দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে।

Read More : জনগণনা ২০২৭ | দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ মালদহে

এবার কেন El Nino নিয়ে এত আলোচনা?

কারণ এবারের পূর্বাভাস সাধারণ El Niño-র চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী signal দেখাচ্ছে।

NOAA-র ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর ENSO Diagnostic Discussion অনুযায়ী, ২০২৬ সালের উত্তর গোলার্ধের শরৎ ও শীতকালে very strong El Niño হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। জুলাইয়ে Niño-3.4 index ছিল +1.4°C, Niño-3 ছিল +1.7°C এবং Niño-1+2 ছিল +2.9°C।

NOAA-র climate outlook আরও বলছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর সময়কালে ঐতিহাসিকভাবে বড় El Niño হওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য। একটি forecast-এ +2.5°C বা তার বেশি 3-month RONI event-এর সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ বলা হয়েছে।

অন্যদিকে NOAA-র GFDL experimental model-ও দেখাচ্ছে, El Niño শরৎকালে আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং অক্টোবর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে peak করার সম্ভাবনা রয়েছে। মডেলটির সব ৩০টি ensemble member-ই ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী El Niño-র সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে এমন peak signal দেখাচ্ছে। তবে GFDL নিজেই এটিকে experimental forecast, অর্থাৎ official NOAA forecast নয়, বলে উল্লেখ করেছে।

Met Office-এর সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ব্রিটেনের Met Office-এর ২১ আগস্ট ২০২৬-এর বিশ্লেষণ এই পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।

Met Office-এর Head of Long Range Forecasting Professor Adam Scaife বলেছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী এই El Niño-র signal তিনি আগে কখনও এত তীব্র দেখেননি। সাধারণ বড় El Niño-তে equatorial Pacific-এর সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাধারণত ১ থেকে ২°C-এর মতো বাড়ে। ২°C-এর কাছাকাছি বৃদ্ধিকেও বড় El Niño হিসেবে ধরা হয়।

বর্তমান forecast সঠিক হলে এই ঘটনা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।

Met Office-এর মতে, এই El Niño global annual temperature-এ একটি অস্থায়ী বড় spike তৈরি করতে পারে এবং এর residual heat-এর কারণে ২০২৭ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে

অর্থাৎ ২০২৭ নিয়ে এখন যে আলোচনা হচ্ছে, তার পেছনে মূল কারণ হলো El Niño-র উষ্ণতার প্রভাব এবং ইতিমধ্যেই চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি global warming।

২০২৭ কি সত্যিই বিশ্বের উষ্ণতম বছর হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়।

El Niño সাধারণত global average temperature বাড়ানোর দিকে চাপ তৈরি করে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বছর বিশ্বের উষ্ণতম বছর হবে কি না, তা শুধু El Niño-র ওপর নির্ভর করে না।

এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত:

  • দীর্ঘমেয়াদি মানবসৃষ্ট global warming
  • সমুদ্রের তাপমাত্রা
  • বায়ুমণ্ডলীয় circulation
  • volcanic activity
  • অন্যান্য climate oscillation
  • El Niño কতটা শক্তিশালী এবং কতদিন স্থায়ী হয়

তবে শক্তিশালী El Niño সাধারণত global temperature-এর ওপর বাড়তি উষ্ণতার চাপ তৈরি করে। তাই ২০২৭ সালে নতুন temperature record হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নজর রাখছেন। Met Office-ও ২০২৭ সালে record global temperature-এর সম্ভাবনার কথা বলেছে।

El Nino কতদিন থাকে?

El Niño সাধারণত কয়েক বছর অন্তর দেখা যায় এবং একটি event প্রায় কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় স্থায়ী হতে পারে।

বর্তমান NOAA forecast অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শক্তিশালী হওয়া El Niño ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাইয়ের NOAA outlook-এ early spring 2027 পর্যন্ত El Niño থাকার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ বলা হয়েছিল।

ফলে ২০২৬-এর শেষভাগ এবং ২০২৭-এর প্রথমভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভারতের ওপর Super El Nino-এর কী প্রভাব পড়তে পারে?

ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বর্ষা

El Niño এবং ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। শক্তিশালী El Niño অনেক সময় ভারতের বর্ষাকে দুর্বল করার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে প্রতিটি El Niño-তে একই রকম পরিস্থিতি হয় না।

ভারতের বৃষ্টিপাতের ওপর Indian Ocean Dipole, Madden-Julian Oscillation এবং অন্যান্য atmospheric-oceanic factors-ও প্রভাব ফেলে।

তাই শুধু El Niño দেখেই কোনো বছরের বর্ষা কতটা খারাপ হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

২০২৬-এর ভারতীয় বর্ষায় ইতিমধ্যেই চাপ

২০২৬ সালের পরিস্থিতি অবশ্য উদ্বেগজনক।

IMD-র এপ্রিল ২০২৬-এর Long Range Forecast-এ পুরো দেশের জন্য Southwest Monsoon rainfall LPA-এর ৯২ শতাংশ, অর্থাৎ below normal হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যার model error ছিল ±৫ শতাংশ।

এরপর ২৪ আগস্টের Reuters রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ভারতীয় বর্ষায় seasonal rainfall দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম হতে পারে এবং এটি ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল বর্ষাগুলোর একটি হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের cumulative rainfall deficit ছিল ১৩ শতাংশ।

অর্থাৎ El Niño-র শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে ভারতের বর্ষার দুর্বলতার বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে।

কৃষিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ভারতের কৃষি বর্ষার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে প্রথম ধাক্কা পড়ে খরিফ ফসলে। বিশেষ করে:

  • ধান
  • ভুট্টা
  • ডাল
  • সয়াবিন
  • তুলা
  • তেলবীজ

এর মতো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল বর্ষার কারণে cotton, soybean, corn এবং pulses-এর মতো summer crops-এর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে মাটিতে moisture কমে গেলে পরবর্তী রবি মরসুমের wheat ও rapeseed-এর মতো ফসলও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অর্থাৎ দুর্বল বর্ষার প্রভাব শুধু একটি season-এ সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা

কৃষি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

কোনো নির্দিষ্ট ফসলের উৎপাদন কম হলে:

কম উৎপাদন → সরবরাহ কম → বাজারে দাম বাড়ার চাপ

তবে সব পণ্যের দাম একইভাবে বাড়বে না। সরকারি মজুত, আমদানি-রপ্তানি নীতি, সেচের সুবিধা এবং পরবর্তী মৌসুমের উৎপাদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষ করে খাদ্যতেল, চিনি, ডাল ও কিছু কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে El Niño-র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শক্তিশালী El Niño tropical agricultural commodities-এর ওপর volatility বাড়াতে পারে বলে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের তাপপ্রবাহ কি আরও বাড়তে পারে?

এটিও বড় প্রশ্ন।

El Niño সরাসরি ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের তাপমাত্রা তৈরি করে না। কিন্তু দুর্বল বর্ষা, কম মাটির আর্দ্রতা এবং দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা একসঙ্গে থাকলে কিছু অঞ্চলে heatwave-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই ২০২৭ সালে ভারতের জন্য শুধুমাত্র বৃষ্টির ঘাটতি নয়, তাপপ্রবাহ এবং জলসংকটও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট heatwave-এর মাত্রা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

জলসংকট কতটা বাড়তে পারে?

বর্ষার বৃষ্টি কম হলে তার প্রভাব নদী, জলাধার, ভূগর্ভস্থ জল এবং কৃষি সেচের ওপর পড়তে পারে।

শহরাঞ্চলে পানীয় জলের চাহিদা বাড়তে পারে। গ্রামীণ এলাকায় সেচের জন্য অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

এর সঙ্গে যদি উচ্চ তাপমাত্রা যুক্ত হয়, তাহলে water demand আরও বাড়বে।

তাই শক্তিশালী El Niño শুধু weather event নয়, এটি water security এবং food security-এর সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই প্রভাব পড়তে পারে

El Niño একটি Pacific Ocean phenomenon হলেও এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

Pacific-এর সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে atmospheric circulation পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে:

  • অতিবৃষ্টি
  • খরা
  • তাপপ্রবাহ
  • ঝড়ের পরিবর্তিত প্রবণতা
  • কৃষি উৎপাদনে সমস্যা
  • খাদ্যের দামে অস্থিরতা

দেখা যেতে পারে।

তবে সব অঞ্চলে একই প্রভাব পড়বে না। কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টি হতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।

Met Office-ও উল্লেখ করেছে যে El Niño tropical Pacific-এর বাইরে jet stream এবং tropical rainfall distribution-সহ বৃহত্তর atmospheric circulation-কে প্রভাবিত করতে পারে।

Super El Nino কি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল?

El Niño নিজে কোনো নতুন phenomenon নয়। এটি একটি প্রাকৃতিক climate pattern।

কিন্তু বর্তমান পৃথিবী ইতিমধ্যেই anthropogenic climate change-এর কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ।

ফলে একটি শক্তিশালী El Niño যখন এই উষ্ণ climate-এর ওপর যোগ হয়, তখন global temperature সাময়িকভাবে আরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা ২০২৭-এর global temperature নিয়ে এত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন।

অর্থাৎ বিষয়টি এমন নয় যে “El Niño-ই পৃথিবীকে গরম করে দিচ্ছে”। বরং দীর্ঘমেয়াদি global warming-এর ওপর El Niño একটি অতিরিক্ত natural warming influence হিসেবে কাজ করতে পারে।

2015-16 El Nino-এর সঙ্গে কি তুলনা করা যায়?

অতীতে অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño দেখা গেছে। ২০১৫-১৬ El Niño তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য।

তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬-২৭ event সেই ধরনের শক্তিশালী ঘটনাগুলোর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। NOAA-র আগস্টের outlook-এ historic-strength event-এর সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে forecast যতই শক্তিশালী হোক, এটি এখনও forecast। সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের interaction পরিবর্তিত হলে peak intensity-ও বদলাতে পারে।

তাহলে কি সত্যিই ‘Super El Nino’ আসছে?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño তৈরি হওয়ার ঝুঁকি এখন যথেষ্ট বেশি।

NOAA বলছে, ২০২৬ সালের Northern Hemisphere fall and winter-এ very strong El Niño হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি।

Met Office এটিকে living memory-র সবচেয়ে শক্তিশালী El Niño হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তাই সংবাদমাধ্যমে এটিকে “Super El Nino” বলা হলেও মনে রাখতে হবে, এটি মূলত শক্তিশালী El Niño বোঝাতে ব্যবহৃত একটি বর্ণনামূলক শব্দ। এটি কোনো আলাদা official ENSO category নয়।

এখন নজর থাকবে কোন বিষয়গুলোর দিকে?

আগামী কয়েক মাসে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে নজর রাখবেন:

  1. Niño-3.4 অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা
  2. Trade wind-এর পরিবর্তন
  3. Pacific Ocean-এর subsurface heat
  4. Atmospheric pressure pattern
  5. Indian Ocean Dipole
  6. ভারতের Southwest Monsoon-এর অবশিষ্ট rainfall
  7. ২০২৬-এর শেষভাগের global temperature
  8. ২০২৭ সালের প্রথম কয়েক মাসের temperature trend

এই তথ্যগুলো মিলিয়েই বোঝা যাবে El Niño শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হয় এবং তার global impact কতটা বড় হয়।

শেষ কথা Super El Nino 2026-27

Super El Nino 2026-27 নিয়ে যে সতর্কতা এখন সামনে এসেছে, সেটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কারণ নেই। NOAA-র official outlook এবং Met Office-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ দুটোই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী El Niño-র দিকে ইঙ্গিত করছে।

ভারতের ক্ষেত্রে এর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো বর্ষা, কৃষি, জলসম্পদ এবং তাপপ্রবাহ। ২০২৬ সালের দুর্বল বর্ষা ইতিমধ্যেই কৃষি ও জলসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ২০২৭ সালে global temperature নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে কি না, সেটি এখনই নিশ্চিত নয়। তবে শক্তিশালী El Niño সেই সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েক ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত ভারতের বৃষ্টি, কৃষকের ফসল, বাজারের দাম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার: এই পূর্বাভাস পরিস্থিতির বর্তমান বৈজ্ঞানিক মডেল ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস আপডেট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে El Niño-র সম্ভাব্য শক্তি ও প্রভাবের হিসাবও পরিবর্তিত হতে পারে।

Syed Mosharaf Hossain
Syed Mosharaf Hossainhttps://syedmosharafhossain.in/
Syed Mosharaf Hossain is a visionary educator, technical innovator, and the Principal of Purbasthali-II Government ITI, West Bengal. An Electronics & Communication Engineer, he is the creator of the internationally recognized "Arduino-based Smart Shoe" for women’s safety, featured in the World Book of Records. As the Founder of SD ONUPRON GROUP, Syed has over six years of expertise in SEO, web development, and digital journalism. Honored as the "Principal of the Year" at the Asia Education Conclave 2025, he remains dedicated to driving technical innovation and mentoring future professionals in India's education sector.

Read more

Local News