সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বড় ঘোষণা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার নলবনে আয়োজিত রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে পরিবেশ রক্ষাকে গণআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান এবং চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বড় ঘোষণা : রাজ্যজুড়ে ৬ লক্ষ গাছ রোপণের কর্মসূচি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ উদ্যোগকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি স্থানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ব্লক অফিস, পৌরসভা, কর্পোরেশন, স্কুল-কলেজ, পার্ক এবং থানাগুলিতে মিলিয়ে ৬ লক্ষ ফলজ গাছ রোপণ করা হচ্ছে।
শুধু গাছ লাগালেই নয়, রক্ষণাবেক্ষণেও জোর
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু গাছ লাগিয়ে ছবি তোলাই লক্ষ্য নয়। প্রতিটি চারাকে বড় গাছে পরিণত করার জন্য তার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সেই কারণেই গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষার সিলেবাসে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্কুলের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত বিষয়ের পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ভাবছে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘ইকো ক্লাব’ গঠনের আহ্বান
রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ‘ইকো ক্লাব’ গঠন করা হোক। পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা এই ক্লাবগুলিকে রাজ্যের পরিবেশ দফতরের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
স্বচ্ছতা অভিযানে নতুন উদ্যোগ
পরিবেশ দিবসের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১০টি শহরে চালু হওয়া স্বচ্ছতা অ্যাপ-এর পরিষেবা আরও বিস্তৃত করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাস্তা বা এলাকায় ময়লা-আবর্জনার ছবি আপলোড করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সমস্ত কর্পোরেশন ও নগর স্থানীয় সংস্থায় (ULB) এই পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেন তিনি।
বনভূমি ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ
নিজের সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে বনভূমি ধ্বংসের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে, যার ফলে তাদের মৃত্যুও বাড়ছে। বন সংরক্ষণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অরণ্য সপ্তাহে বিশেষ অভিযান
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো হবে। বনায়ন এবং পরিবেশ রক্ষাকে আরও জোরদার করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হবে।
দূষণ কমাতে ইলেকট্রিক চুল্লি দেওয়ার প্রস্তাব
যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনও কয়লা বা কাঠের চুল্লি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তহবিল থেকে ইলেকট্রিক চুল্লি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে বায়ুদূষণ কমবে এবং পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
পরিবেশ সূচক প্রকাশের নির্দেশ
রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিনের বায়ুদূষণ সূচক (AQI), SO₂ মাত্রা এবং পরিবেশগত তথ্য প্রকাশের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে সাধারণ মানুষ পরিবেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন।
পরিবেশ রক্ষায় দেশসেরা হওয়ার লক্ষ্য
ভাষণের শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একসময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গকে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও এক নম্বরে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি রাজ্যের সকল নাগরিককে পরিবেশ রক্ষার এই অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান এবং চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকার করেন।
