একটি গাছ মায়ের নামে: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ১.১ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাযজ্ঞ

মা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার অনন্য উদ্যোগ

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

একটি গাছ মায়ের নামে: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর ও বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে শুরু করতে চলেছে এক অনন্য পরিবেশ আন্দোলন “একটি গাছ মায়ের নামে” (Ek Ped Ma Ke Naam)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রদর্শিত এই ভাবনার আলোকে আগামী ৫ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সমগ্র রাজ্যে ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, এটি মা ও ধরিত্রী মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতার এক সামাজিক অঙ্গীকার।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর ও বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে “একটি গাছ মায়ের নামে” (Ek Ped Ma Ke Naam) শীর্ষক এক বৃহৎ জনসচেতনতামূলক ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৫ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সমগ্র রাজ্যে ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি মা ও ধরিত্রী মাতার মধ্যে চিরন্তন সম্পর্ককে শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শক্তি হতে চলেছে রাজ্যের বিপুল ছাত্রসমাজ। পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার বিদ্যালয় এবং প্রায় ১.৮ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, স্থানীয় এলাকা এবং বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং রোপিত চারাগাছের পরিচর্যার দায়িত্বও গ্রহণ করবে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী প্রতিনিধিদের “গ্রীন অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে মনোনীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গ্রীন অ্যাম্বাসেডররা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, সবুজায়ন এবং স্থানীয় স্তরে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিবেশ নেতৃত্বের একটি নতুন মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Read More : ঋতব্রত ব্যানার্জীর জীবনী: ছাত্রনেতা থেকে বিধায়ক হওয়ার রাজনৈতিক যাত্রা

ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে বিশেষভাবে তৈরি ব্যাজ ও স্টিকার প্রদান করা হবে। এছাড়াও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়গুলিতে “একটি গাছ মায়ের নামে” শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, প্রবন্ধ রচনা, পোস্টার অঙ্কন, স্লোগান লেখা এবং অন্যান্য সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণকে একটি প্রশাসনিক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে জনঅংশগ্রহণমূলক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

সরকারের আশা, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়, প্রতিটি শিক্ষার্থী এবং প্রতিটি পরিবার পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে অংশীদার হবে। একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ উপহার দিতে পারে, তেমনি “একটি গাছ মায়ের নামে” কর্মসূচি আগামী দিনের সবুজ ও টেকসই বাংলা গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের।

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮৪,০০০ সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয় এবং প্রায় ১০,০০০ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বিপুল ছাত্রশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণকে একটি গণআন্দোলনে রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, বাড়ির আশেপাশে, গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগাবে এবং সেই গাছের পরিচর্যার দায়িত্বও গ্রহণ করবে।

“গ্রীন অ্যাম্বাসেডর” কারা?

এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল “গ্রীন অ্যাম্বাসেডর” নির্বাচন।

প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রী প্রতিনিধিদের “গ্রীন অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে মনোনীত করা হবে। তারা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্লাস্টিক বর্জন, জল সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সবুজায়ন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবে।

গ্রীন অ্যাম্বাসেডরদের প্রধান দায়িত্ব

  • বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা।
  • রোপিত গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা।
  • সহপাঠীদের পরিবেশ সচেতন করে তোলা।
  • প্লাস্টিক দূষণ বিরোধী প্রচার চালানো।
  • জল সংরক্ষণ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রচার করা।
  • পরিবেশ দিবস, বনমহোৎসব ও অন্যান্য দিবসে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।
  • বিদ্যালয় ও স্থানীয় এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব প্রদান করা।

বিশেষ ব্যাজ ও স্টিকার

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ব্যাজ ও স্টিকার প্রদান করা হবে।

এই ব্যাজ শুধুমাত্র একটি পরিচয়চিহ্ন নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার বার্তা বহনকারী প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন এই ব্যাজ ধারণ করে শিক্ষার্থীরা রাজ্যজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

“একটি গাছ মায়ের নামে” শপথ

আমরা শপথ করছি যে,

আমরা প্রত্যেকে আমাদের মায়ের নামে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করব।

আমরা সেই গাছের পরিচর্যা করব এবং তাকে বড় করে তুলব।

আমরা প্রকৃতিকে ভালোবাসব এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করব।

আমরা জল, বায়ু ও মাটির দূষণ রোধে সচেষ্ট থাকব।

আমরা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাব এবং অন্যদেরও সচেতন করব।

আমরা সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বাংলা গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বিদ্যালয়ে আয়োজিত হতে পারে যে সকল কর্মসূচি

  1. বৃক্ষরোপণ অভিযান
  2. পরিবেশ বিষয়ক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা
  3. অঙ্কন প্রতিযোগিতা
  4. পোস্টার তৈরি প্রতিযোগিতা
  5. স্লোগান প্রতিযোগিতা
  6. পরিবেশ বিষয়ক কুইজ
  7. র‍্যালি ও সচেতনতা শোভাযাত্রা
  8. প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস অভিযান
  9. পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
  10. পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্ভাব্য স্লোগান

“একটি গাছ মায়ের নামে, সবুজ হোক পৃথিবী থামে থামে”

“মাকে ভালোবাসি, গাছও লাগাই”

“আজ একটি গাছ, আগামী দিনের শ্বাস”

“সবুজ পৃথিবী গড়তে চাই, একটি গাছ আজই লাগাই”

“গাছ বাঁচাও, জীবন বাঁচাও”

“মায়ের নামে গাছ লাগাই, পরিবেশকে রক্ষা পাই”

“একটি গাছ, একটুকু প্রাণ, সবুজ হোক সারা বাংলা”

পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মাটিক্ষয় রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নাগরিক। তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করা।

উপসংহার

“একটি গাছ মায়ের নামে” শুধুমাত্র একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, এটি একটি আবেগ, একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং একটি পরিবেশ আন্দোলন। মা যেমন আমাদের জীবন দেন, তেমনি প্রকৃতিও আমাদের বেঁচে থাকার সব উপাদান প্রদান করে। তাই মা ও ধরিত্রী মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রত্যেকের উচিত অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করা এবং তার যত্ন নেওয়া।

আসুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা সকলে অঙ্গীকার করি—

“মায়ের নামে একটি গাছ, সবুজ হোক বাংলার আকাশ।”

Syed Mosharaf Hossain
Syed Mosharaf Hossainhttps://syedmosharafhossain.in/
Syed Mosharaf Hossain is a visionary educator, technical innovator, and the Principal of Purbasthali-II Government ITI, West Bengal. An Electronics & Communication Engineer, he is the creator of the internationally recognized "Arduino-based Smart Shoe" for women’s safety, featured in the World Book of Records. As the Founder of SD ONUPRON GROUP, Syed has over six years of expertise in SEO, web development, and digital journalism. Honored as the "Principal of the Year" at the Asia Education Conclave 2025, he remains dedicated to driving technical innovation and mentoring future professionals in India's education sector.

Read more

Local News