সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
PM SVANidhi Yojana: করোনা মহামারির সময় দেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথ বিক্রেতা জীবিকা হারানোর মুখে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দিতে কেন্দ্র সরকার চালু করেছিল প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেন্ডর আত্মনির্ভর নিধি (PM SVANidhi) প্রকল্প। চালুর ছয় বছর পর এই প্রকল্প আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, PM SVANidhi প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৭৫ লক্ষেরও বেশি পথ বিক্রেতা উপকৃত হয়েছেন। ১.১২ কোটিরও বেশি জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৭,৮০০ কোটির টাকারও বেশি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের প্রায় ৪৬ শতাংশ সুবিধাভোগী নারী।
পশ্চিমবঙ্গে মেগা নিয়োগ ২০২৬-২০২৮: ৬.৫ লক্ষের বেশি শূন্যপদে চাকরির সম্ভাবনা, কোন বিভাগে কত নিয়োগ?
ছোট ব্যবসা থেকে স্বনির্ভরতার পথে
চণ্ডীগড়ের পূজা রানির জীবনকাহিনি এই প্রকল্পের বাস্তব সাফল্যের একটি উদাহরণ। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি ছোট পরিসরে পার্স বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। পরে PM SVANidhi প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ পেয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পান।
পূজা জানান, আশপাশের মানুষের কাছ থেকে প্রকল্পের কথা জানতে পেরে আবেদন করেন। প্রথমে ঋণ নিয়ে ব্যবসার জন্য নতুন পণ্য কিনতে সক্ষম হন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি আয় করছেন।
চায়ের দোকান থেকে পোশাকের শোরুম
রাঁচির গোপাল প্রসাদ বর্মনের গল্পও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি প্রথমে একটি ছোট চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে PM SVANidhi প্রকল্পের একাধিক ঋণের সুবিধা নিয়ে স্ন্যাকস বিক্রি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে একটি পোশাকের দোকানও খুলতে সক্ষম হন।
তাঁর মতে, তৃতীয় কিস্তির ঋণ পাওয়ার পর তিনি স্থায়ী দোকান চালু করতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ঋণ নয়, আরও নানা সুবিধা
PM SVANidhi প্রকল্প কেবল ঋণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘SVANidhi Se Samriddhi’ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগী ও তাঁদের পরিবারকে বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
এছাড়াও ব্যবসায়ীদের আর্থিক সচেতনতা, ডিজিটাল লেনদেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক পথ বিক্রেতা আধুনিক ব্যবসায়িক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছেন।
সুদের বোঝা থেকে মুক্তি
বারাণসীর সবজি বিক্রেতা শীলা দেবী দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের মহাজনি ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। PM SVANidhi প্রকল্পের ঋণ পাওয়ার পর তিনি সেই নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তাঁর মতে, এই প্রকল্পের ফলে ব্যবসা যেমন এগিয়েছে, তেমনি আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
একইভাবে ফরিদাবাদের রাকেশ কুমারও প্রকল্পের সাহায্যে নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথমে ১০,০০০ টাকার ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে খাবারের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটে।
সম্মানের সঙ্গে নতুন জীবন
গাজিয়াবাদের ববিতা শর্মা আগে একটি মন্দিরের বাইরে ছোট পূজার সামগ্রীর স্টল চালাতেন। PM SVANidhi প্রকল্পের তিনটি ঋণ কিস্তির সুবিধা পাওয়ার পর তিনি এখন ভাড়া করা একটি দোকান থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তাঁর কথায়, এই প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থানই দেয়নি, সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগও করে দিয়েছে।
২০৩০ পর্যন্ত চলবে প্রকল্প
কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে PM SVANidhi প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগামী বছরগুলিতেও দেশের লক্ষ লক্ষ পথ বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং ব্যবসা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন।
ছয় বছরে PM SVANidhi প্রকল্প প্রমাণ করেছে যে সঠিক সময়ে ক্ষুদ্র ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। বহু পথ বিক্রেতার কাছে এটি শুধু একটি ঋণ প্রকল্প নয়, বরং আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন অধ্যায়।
