সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ : দেশের সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET) পাশ বাধ্যতামূলক বলে পুনরায় স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। টেট সংক্রান্ত রিভিউ মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, কর্মরত শিক্ষকদের ৩১ অগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। একইসঙ্গে টেট পাশের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষকতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে টেট পাশ বাধ্যতামূলক। জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ (NCTE)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতা করতে হলে এই যোগ্যতা অর্জন করা আবশ্যক। তবে বিভিন্ন রাজ্যে বহু শিক্ষক টেট চালুর আগেই নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।
ভোটে ধাক্কার পর প্রথম বড় সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনারপুরের মঞ্চে কী বার্তা দেবেন?
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্য সরকার, শিক্ষা সংস্থা ও শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। সেই আবেদনের শুনানিতেই আদালত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কর্মরত শিক্ষকদের জন্যও টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। সেই সময় আদালত শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য দুই বছরের সময় দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে চাকরি ছাড়তে হতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁরা শুধুমাত্র অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তবে এবার রিভিউ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত কিছুটা স্বস্তি দিয়ে টেট পাশের সময়সীমা ৩১ অগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। আদালতের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শিক্ষকতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী,
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের টেট যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের পরেও কেউ এই যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে তাঁদের চাকরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের লক্ষাধিক প্রাথমিক শিক্ষক সরাসরি প্রভাবিত হবেন বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। এখন রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দপ্তরগুলি কীভাবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষক সমাজের।
